সকালে নিয়মিত লেবু পানি পানের উপকারিতা




আমরা সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং গরমের দিনে শরবত তৈরি করতে লেবু ব্যবহার করি। কিন্তু এর উপকারিতা এখানেই শেষ না। লেবুতে আছে ভিটামিন সি এবং খনিজ উপাদান যা আমাদের হৃদযন্ত্রের ধড়ফড়ানি কমানো থেকে ফুসফুসকে ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। আর সকাল সকাল লেবু পানি পান করা আরও ভালো। নিয়মিত সকালে এক কাপ লেবু পানি পান করলে আপনাদের দেহ পাবে জাদুকরী উপকারিতা।
১. পাকা লেবুতে থাকে ইলেকট্রোলাইটস (যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি)। সকাল সকাল লেবু পানি আপনাকে হাইড্রেট করে, শরীরে যোগান দেয় এইসব প্রয়োজনীয় উপাদানের যা দেহের পানিশূন্যতা দূর করে।
২. লেবুপানি দেহের ত্বকের জন্য খুবই ভাল। লেবুর ভিটামিন সি উপাদান দেহের ত্বক ও টিস্যুর জন্য খুব জরুরি। তাই ত্বকের যে কোন সমস্যা রোধ করতে প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন। আপনার ত্বককে করে তোলে সুন্দর ও পরিষ্কার।
৩. বুক জ্বলা পড়া দূর করে। যাদের এই সমস্যা আছে রোজ আধা কাপ পানির মাঝে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।
৪. অন্য যে কোন খাবারের চেয়ে লেবু পানির ব্যবহারে লিভার অনেক বেশি দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে পারে।
৫. আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।
৬. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।
৭. লেবু পানি শরীরের রক্তবাহী ধমনী ও শিরাগুলোকে পরিষ্কার রাখে।
৮. হাড় জয়েন্ট ও মাসল পেইন কমায় দ্রুত।
৯. সকাল সকাল চা বা কফি পান করে দিন শুরু না করে লেবু পানি পান করে দেখুন। নিজের এনার্জিতে নিজেই বিস্মিত হবেন! আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।
১০. গর্ভবতী নারীদের জন্য খুবই ভালো লেবু পানি। এটা শুধু নারীর শরীরই ভালো রাখে না। বরং গর্ভের শিশুর অনেক বেশি উপকার করে। লেবুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শিশুর হাড়, মস্তিষ্ক ও দেহের কোষ গঠনে সহায়তা করে। মাকেও গর্ভকালে রোগ বালাই থেকে দূরে থাকে।
যেভাবে পান করবেন :
সামান্য উষ্ণ পানি বা এই গরমের দিনে কক্ষ তাপমাত্রার পানিতেই মিশিয়ে নিন লেবুর রস। লাইম নয়, লেমনের রস। পাকা, অর্থাৎ পেকে হলুদ হয়ে যাওয়া লেবুর রস। নাহলে খালি পেটে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে! আপনার ওজন যদি ১৫০ পাউন্ডের কম হয়, তাহলে অর্ধেক লেবুর রস এক গ্লাস পানিতে মেশাবেন। আর যদি ১৫০ পাউনডের বেশি হয়, তাহলে মেশাবেন পুরো একটা লেবুর রস।






মুরগির কলিজার যত গুণাগুণ-কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় মুরগির কলিজা




গরু কিংবা খাসির কলিজা অনেকেরই পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে। কিন্তু মুরগির কলিজা নিয়ে কিছুটা দোটানা থেকেই যায়। মুরগির মাংসের মতো এর কলিজাও উপকারী? 
পুষ্টিবিদদের মতে মুরগির মাংসের তুলনায় এর কলিজার পুষ্টিগুণ কোনো অংশে কম নয়। এতে রয়েছে নানা রকম উপকারী ভিটামিন, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ফাইবার ইত্যাদি।  
ভিটামিন এ ও বি সমৃদ্ধ মুরগির কলিজা আমাদের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। এটি মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বেশ উপকারী। কলিজাতে থাকে ফাইবার ও আয়রন যা শরীর ও হার্টের সুরক্ষায় কাজ করে। 
মুরগির কলিজার রয়েছে সেলেনিয়াম নামক একটি উপাদান যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, বিভিন্ন সংক্রমণ ও গাঁটে ব্যথার মতো সমস্যাগুলো কমায় সেলেনিয়াম। নিয়মিত মুরগির কলিজা খেলে কৃমি সমস্যা থাকে নিয়ন্ত্রণে। 
পুষ্টিবিদদের মতে, মুরগির কলিজায় রয়েছে জিঙ্ক বা দস্তা যা সর্দি, কাশি, জ্বর ইত্যাদি সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এটি। 

মুরগির কলিজায় রয়েছে কোলাজেন ওইলাস্টিন। এটি আমাদের দেহে শিরা উপশিরায় রক্ত প্রবাহ সহজ ও স্বাভাবিক করে। যারা অপুষ্টিতে ভুগছেন তারা খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন এটি। এছাড়া দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে মুরগির কলিজার জুড়ি নেই। 
তবে উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মুরগির কলিজা না খাওয়াই ভালো। কারণ, এটি শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ওজন কমাতে ইচ্ছুক হলেও এড়িয়ে যাবেন এটি।